জর্ডান কাজের ভিসা

জর্ডান কাজের ভিসা |

বাংলাদেশ থেকে অনেকেই অনেক দেশের কাজ করতে যাচ্ছেন। অনেকেই রয়েছেন যারা বাংলাদেশ থেকে অন্যান্য দেশে কাজ করতে যেতে আগ্রহী। বাংলাদেশ থেকে যে সকল দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি মানুষ কাজ করতে চাই তার মধ্যে জর্ডান অন্যতম। বাংলাদেশ থেকে শুধুমাত্র জর্ডান নয় পৃথিবী বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশীরা কাজ করে থাকেন।

আজকের আর্টিকেলে আমরা জর্ডান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আলোচনা করব। আপনারা যারা এই দেশটিতে কাজ করতে অথবা যে কোন ক্যাটাগরি ভিসা নিয়ে যেতে চান তাদের জন্য আজকের আর্টিকেলটি গুরুত্বপূর্ণ। আজকের আর্টিকেল থেকে আপনারা জর্ডান ওয়ার্ক পারমিট ভিসা বা কাজের ভিসা সংক্রান্ত সকল তথ্য জানতে পারবেন। যেগুলো আপনাদের সকলের জানা উচিত।

জর্ডান কাজের ভিসা

আপনারা যারা জর্ডান ওয়ার্ক পার্মেন্ট ভিসা সম্পর্কে জানতে চান তাদের জন্য আজকের আর্টিকেলটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। আজকের আর্টিকেল থেকে আপনারা জানতে চলেছেন জর্ডান সম্পর্কে বিভিন্ন রকম তথ্য। যেমন, জর্ডানে যেতে কত টাকা খরচ হয় বা কত টাকা লাগে, জর্ডানে কাজ করে আপনারা প্রতি মাসে কত টাকা আয় করতে পারবেন, কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন হবে, সেখানে আপনারা কি ধরনের কাজ করবেন এছাড়াও ও আরো অন্যান্য তথ্য। তো চলুন জর্ডান ওয়ার্ক পারমিট ভিসা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেওয়া যাক।

জর্ডান যেতে কত টাকা লাগে

অন্যান্য দেশের তুলনায় জর্ডান যেতে একটু বেশি টাকা লাগে। অর্থাৎ যেতে হলে আপনার খরচ হবে প্রায় ছয় থেকে আট লক্ষ টাকা। তবে আপনি যদি মালয়েশিয়া যেতে চান সে ক্ষেত্রে আপনার খরচ হবে সাড়ে চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা। ওমানে যেতে চাইলে খরচ হবে সাড়ে চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা। এছাড়া আর অন্যান্য দেশে যেতে চাইলে এমন টাকা খরচ হয়। সেই দিক থেকে জর্ডান যেতে একটু বেশি টাকা খরচ হবে। ইতিমধ্যে হয়তো আপনারা বুঝতে পেরেছেন জর্ডান যেতে কত টাকা লাগতে পারে।


জর্ডানে কাজের বেতন কত

বাংলাদেশ থেকে অনেকেই অনেক দেশে কাজ করতে যান। আপনারা বিভিন্ন দেশে গিয়ে কাজ করে প্রতি মাসে আয় করেন এভারেজ ৫০ হাজার টাকার মতো। জর্ড ও তার ব্যতিক্রম না। জর্ডান এবং আপনার কাজ করে প্রতিমাসে ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা বা তারও বেশি আয় করতে পারবেন। এভারেজ হিসেবে আমরা বলতে পারি ওভারটাইমসহ আপনারা সঠিকভাবে কাজ করলে আয় করতে পারবেন প্রায় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা।

তবে কাজের ক্যাটাগরের উপর নির্ভর করে বেতন কমবেশি হয়ে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন রকম কাজের উপর নির্ভর করে বেতন কমবেশ হয়। একই কাজের বেতন কোম্পানি ভেদে পরিবর্তন হয়ে থাকে। আপনারা যে কোম্পানিতে যাবেন সে কোম্পানি সম্পর্কে যাবার পূর্বে আপনারা সকল তথ্য গুগল থেকে দেখে নিতে পারবেন।

জর্ডান যেতে কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন হয়

জর্ডান যেতে হলে নিম্নে উল্লেখিত ডকুমেন্টগুলোর প্রয়োজন হবে। যেমন,
  1. বৈধ একটি পাসপোর্ট। পাসপোর্ট এর মেয়াদ থাকতে হবে সর্বনিম্ন ৬ মাস।
  2. পাসপোর্টে দুটি ফাঁকা পৃষ্ঠা থাকতে হবে।
  3. সদ্য তোলা ছবি প্রয়োজন হবে। ছবিটি তিন মাস আগে তোলা হয়েছে এমন ছবি হলে হবে না। সাম্প্রতিক তুলতে হবে।
  4. ভোটার আইডি কার্ড এবং জন্ম নিবন্ধন কার্ড এর প্রয়োজন হবে।
  5. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট।
  6. মেডিকেল রিপোর্ট।
  7. করোনার টিকা কার্ড।
  8. ব্যাংক স্টেটমেন্ট। অবশ্যই স্টেটমেন্টে শেষ ছয় মাসের হতে হবে।
  9. আপনি যে বিষয়ে দক্ষ তার একটি প্রমাণ পত্র।
  10. পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয় পত্র।


জর্ডানে মহিলাদের চাহিদা বেশি কেন

জর্ডানের মূলত গার্মেন্ট সেক্টরে কাজ বেশি রয়েছে। যে কারণে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের চাহিদা সব সময় বেশি থাকে। গার্মেন্টসে যেহেতু বেশি সময় ধরে কাজ করতে হয় এবং একই রকম কাজ করতে হয় যে কারণে মহিলাদেরকে গার্মেন্টস কাজ করার জন্য পুরুষদের তুলনাই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়ে থাকে। জর্ডানে মহিলাদের কাজের সুযোগ সুবিধা ও বেশি রয়েছে। নিম্নে এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

জর্ডানে মহিলাদের সুযোগ সুবিধা

জর্ডানের মহিলাদের কাজ করার জন্য বেশ সুযোগ-সুবিধা হয়েছে। সেখানে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের চাহিদা ও বেশি। যেসব সুযোগ-সুবিধা গুলো মেয়েদের দেওয়া হয়ে থাকে বা মহিলাদের তা হলো। কোম্পানি থেকে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। মেডিকেল খরচসম্পূর্ণ কোম্পানি বহন করে। এছাড়াও খাওয়া খরচ এবং যাতায়াত খরচ কোম্পানি বহন করে থাকে। এছাড়াও আর অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

জর্ডানে গিয়ে বাঙালিরা কি কি কাজ করেন

এ দেশটিতে গিয়ে বাঙালিরা বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকেন। আপনারা যদি এদেশটিতে যেতে চান সে ক্ষেত্রে আপনাদের জানা প্রয়োজন সেখানে কেমন ধরনের কাজ রয়েছে। যে সকল কাজগুলো করে থাকেন তা নিম্নে জন্য উল্লেখ করা হলো।
  • কন্সট্রাকশন সাইটের বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকেন।
  • গার্মেন্টস সেক্টরে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকেন।
  • ইলেকট্রিশিয়ান
  • মেকানিক্যাল
  • ড্রাইভিং
  • হোটেল
  • ওয়েল্ডিং
  • ক্লিনার
  • প্লাম্বার

জর্ডান কাজের ভিসা | জর্ডান যেতে কত টাকা লাগে |

জর্ডানে যাবার উপায়

জর্ডানে আপনারা যে কোন এজেন্সির মাধ্যমে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যেতে পারেন। তবে যে এজেন্সি বা যার মাধ্যমে যেতে চাচ্ছেন অবশ্যই সেই এজেন্সি সম্পর্কে পূর্বে খোঁজ নিয়ে নেবেন। কেননা বিভিন্ন অবৈধ এজেন্সি রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে আপনি যেতে চাইলে আপনার কাছ থেকে টাকা নেবে কিন্তু আপনাকে আপনার গন্তব্য স্থানে পৌঁছে দেবেনা। তাই যাবার পূর্বে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করবেন।

জর্ডানের মুদ্রার মান কেমন

জর্ডানের মুদ্রার নাম দিনার। বাংলাদেশের মুদ্রার চেয়ে জর্ডানের মুদ্রার মান বেশি। জর্ডানের এক দিনার সমান বাংলাদেশের প্রায় ১৫৫ টাকা। এখান থেকে আমরা বুঝতে পারছি জর্ডানের মুদ্রার মান কেমন। জর্ডানের ১০০ দিনার সমান বাংলাদেশের প্রায় ১৫ হাজার ৫৭০ টাকা। তবে জেনে রাখা ভালো মুদ্রার মান পরিবর্তনশীল। বর্তমানে যে মান রয়েছে পরবর্তী সময়ে কম অথবা বেশি হতে পারে। সব সময় মুদ্রার মানের আপডেট তথ্য গুগল থেকে আপনারা নিতে পারেন।


নবীনতর পূর্বতন