সৌদি আরব কাজের ভিসা

সৌদি আরব কাজের ভিসা

সৌদি আরব পরিচিত

সৌদি আরব এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত। এই দেশটির আয়তন প্রায় ২১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৯০ বর্গ কিলোমিটার। দেশটির রাজধানীর নাম রিয়াদ এবং বৃহত্তম নগরী ও রিয়াদ। এই দেশটির নীতি বাক্য হলঃ- আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই এবং মোহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর রাসুল। এই দেশটির সরকারি ভাষা আরবি। দেশটিতে মোট জনসংখ্যা রয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৬৫ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৩২ জন

দেশটিতে অনেক বাংলাদেশী শ্রমিক কাজ করেন। এবং বর্তমান সময়ে ও অনেকেই এই দেশটিতে কাজ করতে যাচ্ছেন। আপনিও যদি বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব যেতে চান তবে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

সৌদি আরব কাজের ভিসা

আজকের আর্টিকেলে আমরা সৌদি আরব কাজের ভিসা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আলোচনা করেছি। এই আলোচনাগুলো থেকে আপনারা সৌদি আরব সম্পর্কে বিভিন্ন জানা-অজানা বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। আপনারা যারা কাজের ভিসা নিয়ে বা ওয়ার্ক পারমি ভিসা নিয়ে সৌদি আরব যেতে চান তাদের জন্য আজকের আমাদের এই আর্টিকেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজকের আর্টিকেল থেকে আপনারা জানতে পারবেন সৌদি আরব কিভাবে যাবেন, সৌদি আরব যেতে কত টাকা লাগে, সৌদি আরব কাজের বেতন কত, কি কি ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হয়, সৌদি আরবের মুদ্রার মান কেমন এছাড়াও আর অন্যান্য তথ্য। চলুন এই সংক্রান্ত তথ্যগুলো জেনে নেওয়া যাক।

সৌদি আরব যেতে কত টাকা লাগে

সৌদি আরব যেতে মূলত খরচ হয় চার থেকে ছয় লক্ষ টাকা। আপনি যদি কোন এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব যেতে চান তবে আপনার খরচ হবে পাঁচ লক্ষ টাকার মত। আর আপনি যদি কোন দালালের মাধ্যমে সৌদি আরব যেতে চান তবে আপনার খরচ ৬ লক্ষ বা তার বেশি হবে।

বর্তমান সময়ে সকল কিছুর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এক্ষেত্রেও কিছু বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। তবে এর পূর্বে সাড়ে চার লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকার মধ্যে সৌদি আরব যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লক্ষ থেকে সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।

সৌদি আরব কাজের বেতন

সৌদি আরবে আপনি কাজ করে প্রতি মাসে আয় করতে পারবেন ৩৫০০০ থেকে শুরু করে এক লক্ষ বা তারও বেশি টাকা পর্যন্ত। বিভিন্ন কাজের বেতন বিভিন্ন রকম দেওয়া হয়ে থাকে। আবার একই রকম কাজের বেতন বিভিন্ন কোম্পানির পরিবর্তন এর কারণে ও বেতন কমবেশি হয়ে থাকে।

যেমন, যারা লেবারের কাজ করে তারা প্রতি মাসে আয় করেন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু যারা ড্রাইভিং এর কাজ করেন তারা প্রতি মাসে আয় করে থাকেন ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। যারা ইলেকট্রিশিয়ান এর কাজ করেন তারা ও ৫০ হাজার টাকার বেশি প্রতি মাসে আয় করেন।

এভাবে বিভিন্ন কাজের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন রকম বেতন প্রদান করা হয়ে থাকে। আবার দক্ষতা অনুযায়ী ও বেতন কমবেশি হয়ে থাকে। যারা নতুন তাদের বেতন তুলনামূলকভাবে কম হয় আর যারা কাজে বেশি দক্ষ তাদের বেতন নতুনদের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে।

আমাদের সকলেরই জানা উচিত সৌদি আরব কাজে বেতন কত। কেননা আমরা সেখানে কাজ করার জন্য যাব। সুতরাং আমরা দিনশেষে বা মাস শেষে কত টাকা আয় করতে পারবো সেটা জানা জরুরী। আমাদের আসল টাকা তুলতে কত দিন সময় লাগবে, আমরা কত টাকা সেভ করতে পারব, কত টাকা খরচ হবে এগুলো জানতে হবে। এগুলো জানা না থাকলে আমরা বুঝতে পারবো না বিদেশে যেয়ে এত পরিশ্রম করে আমাদের কতটুকু লাভ হবে। তাই এই সকল বিষয় গুলো সম্পর্কে আমাদের সকলের জানা উচিত।


সৌদি আরব যেতে কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন

সৌদি আরব যেতে হলে আপনার বেশ কিছু ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হবে। যে সকল ডকুমেন্টস গুলো শুধু সৌদি আরব নয় অন্যান্য দেশে যাবার ক্ষেত্রেও প্রয়োজন হয়। অবশ্যই ডকুমেন্টগুলো বৈধ হতে হবে তাছাড়া আপনি সৌদি আরবের ভিসা পাবেন না। আপনি যদি চালাকি করার চেষ্টা করেন বা অবৈধ ডকুমেন্টস দিয়ে ভিসা নেওয়ার চেষ্টা করেন তবে আপনি ভিসা পাবেন না। আবার আপনার জরিমানা হবে। সুতরাং এই সকল বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকা উত্তম।
  1. প্রথমত আপনার একটি বৈধ পাসপোর্ট এর প্রয়োজন হবে। পাসপোর্ট এর মেয়াদ থাকবে সর্বনিম্ন ৬ মাস।
  2. যেহেতু আপনি কাজ করার জন্য যাচ্ছেন সুতরাং আপনার পাসপোর্ট এর মেয়াদ ২ বছর হওয়া ভালো বা তার বেশি।
  3. ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর প্রয়োজন হবে, অবশ্যই যে ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেবেন শেষ ছয় মাসের হতে হবে। এবং নিয়মিত এই একাউন্টে লেনদেন হতে হবে।
  4. এন আই ডি কার্ড
  5. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
  6. মেডিকেল রিপোর্ট
  7. করোনার টিকা কার্ড
  8. সদ্য তোলা রঙিন ছবি।
  9. ভিসা ফি পেমেন্ট এর অনলাইন ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হবে।
উক্ত ডকুমেন্টগুলো ছাড়াও আরো অন্যান্য ডকুমেন্টস এর ও প্রয়োজন হতে পারে। আরো অন্যান্য যে সকল ডকমেন্টগুলোর প্রয়োজন হবে আপনি যার মাধ্যমে যাবেন অথবা যে এজেন্সির মাধ্যমে যাবেন তারা আপনাদেরকে জানিয়ে দেবে।

সৌদি আরব যাবার উপায়

সৌদি আরব যাবার জন্য বেশ কয়েক রকম উপায় রয়েছে। আমরা বিভিন্ন কারণে সৌদি আরব যেতে চাই। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাজ করার জন্য যেতে আগ্রহী আমরা। সৌদি আরব যেতে হলে আপনারা দুই রকম বা তারও অধিক পদ্ধতি অবলম্বন করে যেতে পারবেন। বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসা নিয়ে সৌদি আরব যাওয়া সম্ভব। যেমন, স্টুডেন্ট ভিসা, বিজনেস ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট ভিসা, টুরিস্ট ভিসা ইত্যাদি।

আপনারা এই সকল বিষয়গুলো নিজে অন্যের মাধ্যমে এপ্লাই করে সকল ডকুমেন্ট জমা দিয়ে করতে পারেন। অথবা আপনারা সরাসরি এজেন্সি গিয়ে আপনি আপনার ভিসাটি সম্পন্ন করতে পারেন। অথবা আপনারা আপনার বিশ্বস্ত কোন দালালের মাধ্যমে সৌদি আরব ভিসা নিয়ে যেতে পারেন। তবে দালালদের মাধ্যমে যেতে হলে অবশ্যই আপনারা সতর্কতা অবলম্বন করবেন।


সৌদি আরবে কোন কাজের চাহিদা বেশি

সৌদি আরব গিয়ে বাঙালিরা অনেক ধরনের কাজ করেন। কিন্তু সকল কাজের চাহিদা একরকম নয়। যে সকল কাজগুলো চাহিদা সবথেকে বেশি তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো।
  • ড্রাইভিং
  • ইলেকট্রিশিয়ান
  • পাইপ ফিটিং
  • মেকানিক্যাল
  • কনস্ট্রাকশন
  • লেবার
  • ক্লিনার
মূলত এই সকল কাজগুলোর চাহিদা অন্যান্য কাজের তুলনায় অনেক বেশি রয়েছে। আপনারা যারা এই সকল কাজগুলো ভালো পারেন বা দক্ষ তারা খুব সহজেই সৌদি আরব গিয়ে এই সকল কাজগুলো করতে পারবেন। সেখানে উন্নতমানের প্রযুক্তি রয়েছে যে কারণে আপনার ততটা শারীরিক পরিশ্রম হবে না। আপনারা এই সকল কাজগুলোর ওপর দক্ষতা অর্জন করে সৌদি আরব যেতে পারেন তাহলে কাজ পাবার সম্ভাবনা আপনার বেশি থাকবে এবং সহজ হবে।

সৌদি আরবে বাঙালিরা কি কি কাজ করেন

সৌদি আরবে গিয়ে বাঙ্গালিরা বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন। আমরা অনেকেই সৌদি আরব যেতে চাই যে কারণে আমাদের আগ্রহটা বেশি হয়ে থাকে এ বিষয়টি জানার জন্য। কারণ, আমরা যদি কাজের ভিসা নিয়ে সৌদি আরব যাই তাহলে আমরা ও এই সকল কাজগুলোই করে থাকবো। সৌদি আরবে বাঙালিরা যে সকল কাজগুলো করেন তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো।
  1. ইলেকট্রনিক্স
  2. মেকানিক্যাল
  3. পাইপ ফিটিং
  4. লেবার
  5. অটোমোবাইল
  6. ক্লিনার
  7. রেস্টুরেন্ট
  8. ড্রাইভিং
  9. কনস্ট্রাকশন
  10. হোটেল ম্যানেজমেন্ট

সৌদি আরব যেতে কত ঘন্টা সময় লাগে

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ থেকে অনেকেই সৌদি আরবের বিভিন্ন ধরনের ভিসা নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কাজের উদ্দেশ্যে, কেউ চাকরি করার উদ্দেশ্যে, কেউ ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে, আবার কেউ ভ্রমণ করতে। যে যেই কাজের জন্যই যাক না কেন তারা আকাশ পথে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যেয়ে থাকে।

অনেকেই জানেন না সৌদি আরব যেতে কত ঘন্টা সময় লাগে। যে কারণে অনেকেই এই বিষয়টি জানতে আগ্রহী। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি সৌদি আরব যেতে সময় লাগে প্রায় ৬ ঘন্টা ৪০ মিনিট। তবে আবহাওয়া কারণে কিছু সময় কম বেশি হতে পারে।

সৌদি আরবের সেরা কিছু কোম্পানি নাম

বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে গিয়ে বাংলাদেশিরা বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করে থাকেন। অনেকেই  বিভিন্ন কোম্পানির নাম সম্পর্কে জানতে চান। যে কারণে মূলত সৌদিআরবের বেশ কিছু কোম্পানির নাম নিম্নে উল্লেখ করা হলো।
  1. সৌদি আরব জাজিরা কোম্পানি
  2. সৌদি আরবের কোম্পানি
  3. সৌদি আল ইয়ামামা কোম্পানী
  4. সৌদি আরামকো কোম্পানি
  5. সৌদি কেবল কোম্পানি
  6. দা সৌদি ন্যাশনাল ব্যাংক
  7. সৌদি ইলেকট্রিক কোম্পানি
  8. দা সৌদি ব্রিটিশ ব্যাংক
  9. নলেজ ইকোনমিক্স সিটি

সৌদি আরবের টাকার মান কত

আমরা অনেকেই রয়েছে যারা সৌদি আরবে কাজ করতে যেতে চাই। যাবার পূর্বে আমরা জানতে চাই সেই দেশটি সম্পর্কে অনেক জানা-অজানা তথ্য। সেই সকল তথ্যের মধ্যে থেকে আমরা জানতে আগ্রহ হয়ে থাকে সৌদি আরবে টাকার মান সম্পর্কে।

সৌদি আরবের মুদ্রার মান বাংলাদেশের মুদ্রার থেকে অনেক বেশি। সৌদি আরবের মুদ্রার নাম রিয়াল। এক রিয়াল সমান বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৮ টাকা। তবে টাকার মান পরিবর্তনশীল। সুতরাং সব সময় একই নাও থাকতে পারে। সৌদি আরবের ১০০ রিয়াল সমান বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২,৮৭৩ টাকা


FAQ

সৌদি আরব কোন মহাদেশে অবস্থিত

উত্তরঃ- সৌদি আরব এশিয়া মহাদেশ অবস্থিত।

সৌদি আরবের আয়তন কত

উত্তরঃ- সৌদি আরবের আয়তন ২১ লক্ষ ৫০ হাজার বর্গ কিলোমিটার।

সৌদি আরবের রাজধানীর নাম কি

উত্তরঃ- সৌদি আরবের রাজধানীর নাম রিয়াদ

সৌদি আরব যেতে কত সময় লাগে

উত্তরঃ- বাংলাদেশ থেকে সরাসরি সৌদি আরব যেতে সময় লাগে ৬ ঘন্টা ৪০ মিনিট প্রায়

সৌদি আরবের মুদ্রার নাম কি

উত্তরঃ- সৌদি আরবের মুদ্রার নাম সৌদি রিয়াল

সৌদি আরবের এক টাকা সমান বাংলাদেশের কত টাকা

উত্তরঃ- সৌদি আরবের ১ রিয়াল সমান বাংলাদেশের মুদ্রায় প্রায় ২৮ টাকা

আরো জানতে ভিজিট করুন

নবীনতর পূর্বতন