রোবটিক্স এর ব্যবহার

রোবটিক্স এর গুরুত্ব

রোবটিক্স কি বা কাকে বলে

রোবোটিক্স বলতে আমরা বুঝি রোবট তৈরি করার সময় যে ডিজাইন কাজ করার সিস্টেম প্রয়োগ এবং কার্যক্রম এ পুরো বিষয়কে। অর্থাৎ একটি রোবট তৈরি করতে হলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হয় এগুলোকে রোবোটিক্স বলে। রোবোটিক হলো প্রযুক্তির একটি শাখা।

রোবট কাকে বলে

কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত একটি যন্ত্র যা মানুষের মতন করেই কাজ করতে পারে তাকে রোবট বলা হয়। রোটিক্স এর জনক বলা হয় ফ্যাট্রিক অ্যাঙ্গেলবার্গার কে। তিনি মূলত বিশ্বে প্রথম রোবট কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি ছিলেন আমেরিকার একজন নাগরিক। তবে জর্জ চার্লস নামক ব্যক্তিটিকেও রোবোটিক্সের জনক হিসেবে উপাধি দেওয়া হয়েছিল। কারণ রোবটিক্স এর ধারণা নিয়ে তিনিও অনেক যথার্থ ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন।

আমরা পূর্বেই জেনেছি যে রোবটিক হল একটি প্রযুক্তির শাখা যা রোবট তৈরীর কার্যাবলী নিয়ে কাজ করে থাকে। একটি রোবট কোন সিস্টেমে তৈরি করা হবে রোবটের ডিজাইন টি কেমন হবে এবং রোবটের সরঞ্জাম গুলো কিভাবে সংযোজন করতে হবে এই বিষয়গুলো নিয়ে মূলত রোবোটিক্স।

আমেরিকার একটি ইনস্টিটিউট রোবট নিয়ে ১৯৭৯ সালে একটি সঙ্গা প্রদান করেন , তাদের সংজ্ঞা মতে বিষয়টি এরকম ছিল যে রোবট এমন একটি সিস্টেম যাতে করে প্রোগ্রামিং বা মাল্টি পুলেটর ব্যবহার করে একটি গতি তৈরি করা যাতে করে যন্ত্রাংশ টুলস বিভিন্ন ডিভাইস মালামাল হস্তান্তর করার কাজ করা যায়।

রোবটিক্স এর জনক কে

রোবটিক্স এর জনক হল ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গার। তিনি সর্বপ্রথম বিশ্বের রোবট কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিল,যা বিশ্বের প্রযুক্তি বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তবে জর্জ সার্চ ডেভলকেও রোবটিক্সের জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।

সর্বপ্রথম রোবটিক্স শব্দটি কে ব্যবহার করেন

১৯২১ সালের দিকে ক্যাডেল ক্যাফেক্ট নামক একজন লেখক সাইন্স ফিকশন নামের একটি গল্প লিখেন। উক্ত গল্পের সর্বপ্রথম (Robota ) শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।তবে সেই গল্পটিতে রোবটা শব্দটি দিয়ে মূলত শ্রমিক এবং কর্মীর অর্থ বোঝানো হচ্ছিলন।

রোবটিক সম্পর্কিত সাধারণ ধারণা

মূলত  “রোবটা” শব্দটি থেকে সর্বপ্রথম রোবটিক্স শব্দের উৎপত্তি হয়েছিল। তবে এই রোবটা শব্দটির ইংরেজি শব্দ ছিল রোবট, যার আভিধানিক অর্থ হিসেবে আমরা জানি দাস শ্রমিক কর্মী বা লেবার। ১৯৫০ সালের দিকে আমেরিকার প্রকৌশলী, গণিতবিদ এবং উদ্যোক্তা ফ্রডরিক অ্যাঙ্গেলবার্গার এবং একই দেশের উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবক জর্জ দুজন মিলে সর্বপ্রথম শিল্পে উপযোগী রোবট উদ্ভাবন করেছিল।

রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কিছু কথা

বিশ্বে অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা রোবট নিয়ে কাজ করে। আমরা আপনাদের সামনে ঠিক তেমনি কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম এবং পরিচয় সম্পর্কে আলোচনা করব যারা রোবট নিয়ে কাজ করে থাকেন।

ডায়নামিক:

আমরা অনেকে জানি না বিশ্বের সর্বাধুনিক রোবট তৈরির এই কোম্পানিটি Google-এর মালিকানাধীন। সর্বপ্রথম তারা একটি রোবট তৈরি করেছিল যা ছিল একটি প্রাণীর মতো এবং সেটি চলাফেরা ও দৌড়াতে পারতো। বোস্টন ডায়নামিক সেই সকল রোবট তৈরি করে যাদের দক্ষতা গতি আচরণ এবং তীব্রতা অনেক বেশি উন্নত। এই রোবটগুলো কিন্তু সেন্সর দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি কম্পিউটার সিস্টেম এবং জটিল মেকানিজম দ্বারা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা হয় ।

আইরোবট:

হোম রোবট তৈরি করে বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠানটি নাম হলো আইরোবট। এ প্রতিষ্ঠানের তৈরিকৃত রুম্বা নামক একটি রোবট বাসার মেইলস ফ্লোর এবং আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র পরিষ্কার করার জন্য বেশ দক্ষ।

ইয়াস্কাওয়া:

কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৯ সালে। এবং এটি ছিল আমেরিকার শীর্ষ রোবট উৎপাদনকারী কোম্পানি। কোম্পানিটি প্রায় তিন লক্ষ ৬০ হাজার টি মটাম্যান শিল্প রোবট, ১৮ মিলিয়ন এর মত ইনভার্টার এবং ১০ মিলিয়ন সার্ভ সমৃদ্ধ ছিল।

রোবোটিক্স নিয়ম বা আইন

রোবট সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি, রোবটের শক্তি রোবটের কাজ করার ক্ষমতা সম্পর্কে আমরা পূর্বে থেকেই অজ্ঞত আছি। তবে আমরা অনেকে জানিনা রোবট নিয়েও বেশ কিছু আইন রয়েছে। রোবট নিয়ে তিনটি আইন রয়েছে আসুন দেখে নেই আইন তিনটি কি কি:

আইন ১: রোবট কখনো মানুষের ক্ষতি করতে পারবে না, বা মানুষের ক্ষতির কারণ যেন রোবট না হয়।
আইন ২ : রোবটকে প্রতিটা সময় মানুষের নির্দেশ মতো চলতে হবে।
আইন-৩: রোবট তার নিজস্ব অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করতে পারবে, যতক্ষণ না প্রথম ও দ্বিতীয় আইন লঙ্ঘন না হচ্ছে।

রোবট কে তৈরি করা হয় মানুষের কল্যাণ ও কাজের জন্য। রোবট তৈরি করে মানুষ মানব সমাজের কোনো ক্ষতি হোক এটা কেউ চায় না।তাই রোবট তৈরির ক্ষেত্রে কখনোই এই নীতিগুলো লংঘন করা যাবে না।

রোবটের চেহারা কেমন হয়

রোবট বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে, কাজের সুবিধার্থে রোবটকে বিভিন্ন রূপ ধারণ করানো যায়। তবে সাধারণভাবে হিউম্যান রোবট গুলোর একটি মাথা একটি শরীর এবং দুইটি করে বাহু ও পা থাকে। অনেক সময় দেখা যায় মানুষের মত প্রতিলিপিও তৈরি করা হয়। যেমনটা সোফিয়া নামক একটি রোবটের ছিল। সোফিয়াকে অবিকল মানুষের মতো দেখতে মনে হতো।

রোবট কিভাবে কাজ করে

আমরা সকলে জানি যে রোবটকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় কম্পিউটার প্রোগ্রামের মাধ্যমে। একটি রোবটের যে উপাদানগুলো থাকে তা নিয়ে নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ-

মস্তিষ্ক বা প্রসেসর: রোবটের সবচেয়ে মূল অংশের নাম হলো প্রসেসর, একটি রোবটের মধ্যে অনেকগুলো প্রসেসর থাকতে পারে। প্রসেসর দ্বারা মূলত রোবটের চলাচল এবং কর্মকাণ্ড গুলো নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

পাওয়ার সিস্টেম: রোবটকে সাধারণত চার্জ করার পর ব্যবহার করতে হয়। যে সকল ব্যাটারিতে লেড অ্যাসিড রয়েছে সেগুলো দিয়ে রোবট ব্যবহার করা হয়।

সার্কিট: রোবট এ থাকা হাইড্রোলিক এবং নিয়মেট্রিক সিস্টেমকে বিদ্যুতের মাধ্যমে সংযোগ দেয়া হয়।

অনুভূতি: আমরা জানি অনুভূতি মানুষের একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য, অনুভূতির মাধ্যমে আমরা অনেক বিষয় অবলম্বন করতে পারি। কিন্তু রোবটের চেয়ে অনুভূতি থাকে এটা আমরা অনেকে জানি না। হ্যাঁ বন্ধুরা রোবটের কিন্তু সত্যিই অনুভূতি থাকে।

বিশেষ সেন্সরের দ্বারা রোবটকে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যাবতীয় তথ্য সম্পর্কে প্রোগ্রামিং করা থাকে। যাতে করে কোন বিশেষ অঙ্গে স্পর্শ করলে সেখানকার যাবতীয় তথ্য দিতে পারে। রোবট কে ক্যামেরা দিয়ে সামনের এবং পেছনের সম্পূর্ণ দৃশ্য দেখানো হয়। প্রয়োজনের তাগিদে রোবটকে ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ঘোরানো সম্ভব।

এক্সিলেটর: রোবটের বিভিন্ন অঙ্গের নড়াচড়ার করার জন্য কতকগুলো বৈদ্যুতিক মোটরের সমন্বয় তৈরি করা হয় এক্সিলেটর অন্যভাবে বলতে গেলে হাত পায়ের পেশিও বলা যায়।

ম্যানুপুলসন বা পরিবর্তন করা: মূলত রোবটের আশেপাশের বস্তুগুলোর পরিবর্তন নিয়ে এটি করা হয়।

রোবটের বৈশিষ্ট্য কি

রোবটের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে আসন জেনে নিই রোবটের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কেঃ-

  • রোবট নির্দিষ্ট একটি সফটওয়্যার এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। সাধারণের তুলনায় অত্যন্ত দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে কাজ করার সক্ষমতা থাকে।
  • কোন বিরতি ছাড়া ২৪ ঘন্টা একটানা কাজ করার সক্ষমতা থাকে।
  • অস্বাস্থ্যকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা, যেখানে মানুষের যাওয়া অসম্ভব সেই জায়গাগুলোতে রোবট দিয়ে কাজ করতে পারে।
  • রোবট কোন কাজকে বিরক্ত মনে করবে না বা ঘৃণা স্বরূপ কাজ না করে চলে আসতে পারবে না।
  • রোবট চারদিকে ঘুরতে পারে বস্তু নিয়ে স্থানান্তর করতে পারে। এমনকি আশেপাশের জিনিসগুলো অনুভব করতে পারে।
  • রোবট কে পূর্বের দেওয়ার নির্দেশ মত কাজ করে, সামান্য কিছু বুদ্ধিমত্তা আছে তবে সম্পূর্ণ কম্পিউটার মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ হয়ে থাকে।
  • অনেক দূর থেকে লেজার রশি দিয়ে রোবট নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

রোবটিক্স এর গুরুত্ব ও প্রয়োগ

রোবট তৈরি করার মাধ্যমে আমাদের কি কি সুবিধা আসলো এবং এগুলো আমরা কতটুকু প্রাত্যহিক জীবনে প্রয়োগ করতে পারছি তার একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব।
  • শিল্প কারখানার বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্যাকেজিং পরিবহন এবং সংযোজন করার জন্য রোবট ব্যবহার করা হয়।
  • মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে মানুষের পরিবর্তে বর্তমান সময় রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে।
  • বাসা বাড়িতে কাজের বিকল্প হিসেবে রোবট ব্যবহার দেখা যায়।
  • উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে নিরাপত্তার কাজেও রোবট ব্যবহার করা হয়।
  • নিউক্লিয়ার রিয়েক্টরসহ যত ধরনের বিপদজনক কাজ আছে সেগুলো রোবটের মাধ্যমে করানো যায়।
  • চিকিৎসার ক্ষেত্রে সার্জারির জন্য অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কাজ করা যায় রোবটকে দিয়ে।
  • অত্যন্ত সূক্ষ্ম কাজ, যেমন ইলেকট্রিক আইসি ,মাদারবোর্ড ,সার্কিট এগুলো তৈরির ক্ষেত্রে রোবট ব্যবহার করা হয়।
  • যুদ্ধক্ষেত্রের পাইলট ডাইভার এর পরিবর্তে রোবট ড্রাইভার ব্যবহার করা যায়, যুদ্ধক্ষেত্রে বিভিন্ন স্থানে মাহিন বা বোমা সনাক্তকরণের ক্ষেত্রেও রোবটের ভূমিকা অপরিসীম।

আরো জানতে ভিজিট করুন

নবীনতর পূর্বতন