বাহরাইন কাজের ভিসা

বাহরাইন কাজের ভিসা | বাহরাইনে কাজের বেতন কত | বাহরাইন যেতে কত টাকা লাগে |

বাহরাইন কাজের ভিসা তথ্য নিয়ে আজকের আর্টিকেল সাজানো হয়েছে। আপনারা যারা এই দেশটি সম্পর্কে জানতে চান তাদের জন্য আজকের আর্টিকেলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের আর্টিকেল থেকে আপনারা বাহরাইন সংক্রান্ত সকল তথ্য জানতে পারবেন। বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে কাজ করার জন্য মানুষ যেয়ে থাকে।

এমনিভাবে বাংলাদেশ থেকে বাহরাইন অনেক বাঙালি কাজ করতে চাই। যে সকল দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি কাজ করতে যায় বাঙালিরা সেই সকল দেশগুলোর মধ্যে বাহরাইন অন্যতম। আপনি যদি এই দেশটা সম্পর্কে জানতে চান অথবা এই দেশটিতে কাজ করতে যেতে চান তবে যাবার পূর্বে আপনাদের সকলের উচিত এদেশ সম্পর্কে কিছু তথ্য জানা। তাই যারা বাহরাইন সম্পর্কে জানতে চান তারা পুরো কনটেন্ট জুড়ে আমাদের সঙ্গে থাকুন। বাহরাইন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

বাহরাইন কাজের ভিসা

বাহরাইন মধ্যবাচ্যের একটি দেশ। এর পাশে রয়েছে কাতার ও সৌদি আরব। বাংলাদেশ থেকে যে সকল দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি কাজ করতে চাই সেই সকল দেশগুলোর তালিকার মধ্যে বাহরাইন অন্যতম। অর্থাৎ এই দেশটিতেও বাঙালিরা প্রচুর পরিমাণ কাজ করতে এসে থাকে।

আজকের আর্টিকেল থেকে আপনারা বাহরাইন সম্পর্কে যে সকল তথ্যগুলো জানতে পারবেন তা হল। বাহরাইন যেতে কত টাকা লাগে। বাহরাইন এ কাজের বেতন কত, অর্থাৎ একজন বাহরাইন এ গিয়ে কাজ করে প্রতি মাসে কত টাকা আয় করতে পারবেন। বাহরাইন যেতে কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন হয়। বাঙালিরা সেখানে কি ধরনের কাজ করেন এছাড়াও আরো অন্যান্য তথ্য জানতে পারবেন।

বাহরাইন যেতে কত টাকা লাগে

আপনারা অনেকেই বাহরাইন সম্পর্কে জানতে চাই। আর সকলেরই কমন প্রশ্ন থাকে বাহরাইন যেতে কত টাকা খরচ হয় বা কত টাকা লাগে। এটা অবশ্যই আপনাদের সকলেরই জানা উচিত। আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে বাহরাইন যেতে চান সেক্ষেত্রে আপনার মোট খরচ হবে তাই পাঁচ থেকে ছয় লক্ষ টাকা। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিছু টাকা কম অথবা বেশি খরচ হতে পারে।

বাহরাইনে কাজের বেতন কত

বাহরাইনে কাজের বেতন প্রায় ৫৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা। তবে বিভিন্ন কাজের উপর নির্ভর করে বেতন কমবেশি হয়ে থাকে। তবে আপনারা যদি এখানে কাজ করেন সেক্ষেত্রে সে ক্ষেত্রে ৪৫ হাজার থেকে শুরু করে ৮০ হাজার বা তারও বেশি পরিমাণ টাকা আয় করতে পারবেন। বিভিন্ন কাজের মতন বিভিন্ন রকম হয় যেমন, কনস্ট্রাকশনের কাজে বেতন একরকম, যারা ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করে তাদের বেতন একরকম, যারা লেবার কাজ করেন তাদের খরচ একরকম এভাবে বিভিন্ন কাজের খরচ বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে

বাহরাইন যেতে কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন হয়

বাহরাইন যেতে হলে বেশ কিছু ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হয়। যে সকল ডকুমেন্টসগুলো অন্যান্য দেশে যাবার ক্ষেত্রে ও প্রয়োজন হয়ে থাকে। আপনাদের জানা উচিত কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন হয়। কেননা হঠাৎ করে অনেক সময় বিভিন্ন রকম ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হতে পারে কিন্তু না জানা থাকার কারণে আমরা সেই সকল ডকুমেন্টগুলো হঠাৎ করে সংগ্রহ করতে পারি না। অনেক ডকুমেন্টস রয়েছে যেগুলো পূর্ব থেকে সংগ্রহ করে রাখা ভালো। কেননা কখন কি ডকুমেন্টসের প্রয়োজন হয় তার নিশ্চয়তা নেই। তো চলুন জেনে নেই কি কি ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হয়।
  1. প্রথমত আপনার একটি পাসপোর্ট এর প্রয়োজন হবে। অবশ্যই পাসপোর্টটি বৈধ হতে হবে।
  2. তার সাথে সাথে পাসপোর্ট এর মেয়াদ থাকতে হবে সর্বনিম্ন ৬ মাস।
  3. আপনি যেহেতু কাজ করার উদ্দেশ্য নিয়ে যাচ্ছেন সুতরাং আপনার পাসপোর্ট এর মেয়াদ ২ বছর এর বেশি হওয়া ভালো।
  4. জন্ম নিবন্ধন অথবা এন আই ডি কার্ড এর প্রয়োজন হবে।
  5. সদ্য তোলা রঙিন ছবি এর প্রয়োজন হবে।
  6. ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর প্রয়োজন হবে। শেষ ছয় মাসের স্টেটমেন্ট এর প্রয়োজন হবে। নিয়মিত লেনদেন হয় এমন ব্যাংক একাউন্ট বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হবে।
  7. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এর প্রয়োজন হবে। এটা নিয়ে থাকে মূলত আপনার বিরুদ্ধে কোন মামলা বা কোন কিছু রয়েছে কিনা যেগুলোতে আপনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। কিন্তু আপনি ভিসা করার জন্য চেষ্টা করেছেন এসব দেখার জন্য।
  8. করোনার টিকা কার্ড এর প্রয়োজন হবে।
  9. মেডিকেল রিপোর্ট ইত্যাদি।

বাহরাইনে একজন শ্রমিক প্রতি মাসে কত টাকা আয় করতে পারেন

বাহরাইনে কাজ করে একজন শ্রমিক প্রতি মাসে আয় করতে পারবেন ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। তবে সেখানে বিভিন্ন জন বিভিন্ন রকম কাজ করেন। তাই বিভিন্ন কাজের উপর নির্ভর করে বেতন কমবেশি হয়ে থাকে। আপনি যদি কনস্ট্রাকশনের কাজ করেন একরকম বেতন পাবেন।

আপনি যদি ড্রাইভিং এর কাজ করেন সেক্ষেত্রে আরেকরকম বেতন পাবেন। আপনি যদি ইলেকট্রিশিয়ান এর কাজ করেন সেক্ষেত্রে ভিন্ন রকম বেতন পাবেন। তবে যে কাজে করেন না কেন আপনি এভারেজ প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। আপনার কাজ যত উন্নত হবে আপনি তত বেশি বেতন পাবেন।

বাহরাইনে কোন কাজের চাহিদা বেশি রয়েছে

বাহরাইনে বিভিন্ন ধরনের কাজ রয়েছে। তবে সকল কাজের চাহিদা একরকম থাকে না। কোন কোন কাজের চাহিদা বেশি থাকে এবং কোন কোন কাজের চাহিদা কম থাকে। যে সকল কাজগুলো চাহিদা বেশি থাকে আপনি যদি সেই সকল কাজগুলো করতে যান সে ক্ষেত্রে আপনি খুব ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারবেন এবং খুব সহজেই কাজ পাবেন। যে সকল কাজগুলো চাহিদা অন্যান্য কাজের তুলনায় বেশি থাকে সেই সকল কাজগুলো উল্লেখ করা হলো।
  • ইলেকট্রিশিয়ান
  • প্লাম্বার
  • মেকানিক্যাল
  • টাইলস
  • রেস্টুরেন্ট
  • ড্রাইভিং
  • লেবার
  • মেসন ইত্যাদি

বাহরাইন কাজের ভিসা | বাহরাইনে কাজের বেতন কত | বাহরাইন যেতে কত টাকা লাগে |

বাহরাইনে বাঙালিরা কি কি কাজ করেন

বাহরাইনে বাঙালিরা বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বাঙালিরা যে সকল কাজগুলো করেন তা অনেকেই জানেন না। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক বাঙালিরা সেখানে গিয়ে কোন কাজগুলো করে থাকে।
  1. নির্মাণ কাজ করেন।
  2. পরিবহন, অর্থাৎ বিভিন্ন পরিবহনের ড্রাইভার হিসেবে কাজ করেন।
  3. হোটেল ও রেস্তারা। অর্থাৎ হোটেল রিস্তেরা তে বাঙালিরা ওয়েটার হিসেবে কাজ করেন, রাধুনী হিসেবে কাজ করেন, এছাড়াও ক্লিনার হিসেবে কাজ করে থাকেন।
  4. ব্যবসা করেন।
  5. ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করেন।
  6. মেকানিক্যাল এর কাজ করে থাকেন।
এছাড়াও আরো অনেক ধরনের কাজ করে থাকেন।

বাহরাইনের মুদ্রার মান কেমন

বাহরাইন এর মুদ্রার মান বাংলাদেশি মুদ্রার চেয়ে অনেক উন্নত। বাহরাইন এর মুদ্রার নাম বাহরাইন দিনার। আর এক দিনার সমান বাংলাদেশের মুদ্রায় প্রায় ২৯২ টাকা। এ থেকে আমরা বুঝতে পারছি বাহরাইনের মুদ্রার মান কেমন। তবে মুদ্রার মান পরিবর্তনশীল।

এখন যেমন এক বাহরাইন দিনার এর পরিবর্তে ২৯২ টাকা হচ্ছে তবে অন্য সময় এটা নাও থাকতে পারে। কারণ মুদ্রার মান প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। তাই আপনারা যে সময় মুদ্রার মান জানতে চান সেই সময়ই গুগল থেকে জেনে নিতে পারেন আপডেট তথ্য।

বাহরাইন যেতে বিমান ভাড়া কত লাগে

অনেকেই এই প্রশ্নটি করে থাকেন বাংলাদেশ থেকে বাহরাইন যেতে বিমান খরচ কত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ থেকে আপনি যদি বাহরাইন যেতে চান সে ক্ষেত্রে আপনার বিমান খরচ হবে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার। তবে খরচের পরিমাণ বিভিন্ন সময় অনুযায়ী কমবেশি হয়ে থাকে। বিভিন্ন ক্যাটাগরির সিটের ওপর নির্ভর করে ও ভাড়া কম বেশি হয়ে থাকে।

নবীনতর পূর্বতন